সোমবার, ০৯ মার্চ ২০২৬, ০৪:০৪ অপরাহ্ন
নিজস্ব প্রতিবেদকঃ
উত্তরাঞ্চলে ঈদযাত্রায় যানজটের শঙ্কা রয়েছে। টাঙ্গাইলের এলেঙ্গা থেকে রংপুরের মডার্ন মোড় পর্যন্ত সড়ক উন্নয়নের কারণে চলাচল এখন আগের চেয়ে অনেক সহজ। তবে ঈদের ছুটিতে উত্তর ও দক্ষিণাঞ্চলে ঘরমুখী মানুষের চাপের কারণে যানজটের ভোগান্তি দেখা দিতে পারে।
হাইওয়ে পুলিশ এবং সড়ক ও জনপথ বিভাগের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, যমুনা সেতুর পশ্চিম পাশের সড়কে শৃঙ্খলা বজায় রাখতে ইতোমধ্যেই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তবে গাজীপুরের বাইপাইল ও চন্দ্রা এলাকায় যানজট এড়ানো কিছুটা কঠিন হবে। কারণ সেখানে সড়ক উন্নয়নের কাজ এখনো শেষ হয়নি।
উত্তরাঞ্চলের হাইওয়ে পুলিশের বগুড়া ও রংপুর রিজিয়নের দায়িত্বে থাকা পুলিশ সুপার (এসপি) আবু তোরাব শামছুর রহমান বলেন, গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ ও সিরাজগঞ্জের হাটিকুমরুল ইন্টারচেঞ্জে এবার যানজট হতে পারে। তিনি জানান, হাটিকুমরুল ইন্টারচেঞ্জে বাড়তি জনবল নিয়োগ করা হবে। পুলিশের অতিরিক্ত ৩৫০ জন সদস্য চাওয়া হয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে রেকার ও রাস্তার পাশে থাকা হাট-বাজার নিয়ন্ত্রণে রাখা হবে। যমুনা সেতুতে সব সময় মাইকিং করা হবে, যাতে যানচালক ও পথচারী সতর্ক থাকেন।
পুলিশ আশঙ্কা করছে, পুরোনো বাসসহ কিছু যানবাহন যমুনা সেতুসহ অন্যান্য এলাকায় যানজটের কারণ হতে পারে। গত বছর ইদুল ফিতর ও ঈদুল আজহায় উত্তরাঞ্চলে অন্তত ৬০টি পুরোনো বাস পথে নষ্ট হয়ে যাওয়ায় যাত্রীদের ভোগান্তিতে পড়তে হয়েছিল।
উত্তরাঞ্চলে ৯৪৪ কিলোমিটার মহাসড়কে রাস্তায় পাশে ছোট-বড় হাট-বাজার ১১০টি। বৈধ-অবৈধ বাসস্ট্যান্ড অন্তত ২৫০টি রয়েছে। সবচেয়ে বেশি যানজটের আশঙ্কা রয়েছে সিরাজগঞ্জের হাটিকুমরুল, গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ, বগুড়ার মোকামতলা, মাটিডালী, চারমাথা বাসস্ট্যান্ড, বনানী ও শেরপুরের ধুনট মোড়সহ কয়েকটি পয়েন্টে।
সড়ক ও জনপথ বিভাগের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, হাটিকুমরুল থেকে দিনাজপুর, রাজশাহী ও পাবনামুখী মহাসড়কগুলোর চলাচল সহজ করতে বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
সাউথ এশিয়া সাব-রিজিয়নাল ইকোনমিক কো-আপারেশন (সাসেক) সড়ক উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় টাঙ্গাইল থেকে রংপুর পর্যন্ত ১৯২ কিলোমিটার সড়কের উন্নয়নকাজ প্রায় শেষ। এতে যানজট কমেছে। সাসেক প্রকল্প ব্যবস্থাপক মাহবুবুর রহমান বলেন, ‘হাটিকুমরুল ইন্টারচেঞ্জের কিছু লেন চালু হয়েছে। ইদের আগে আরও একটি লেন খুলে দেওয়া হবে। স্থানীয় প্রশাসনের সহায়তায় অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয়েছে। এতে রাস্তার প্রশস্ততা বেড়েছে। জনসাধারণ সহযোগিতা করলে যানজট হবে না।’
স্থানীয় ব্যবসায়ী সাজ্জাদ হোসেন জানান, এখন মোড় এলাকায় আগের মতো যানজট হয় না। তবে ইদের সময় প্রচুর যানবাহন আসবে। পুলিশ এবং সড়ক ও জনপথ বিভাগের লোকজনকে সতর্ক থাকতে হবে। বাসযাত্রীদের যেখানে সেখানে ওঠানামা রোধ করতে হবে।
সাসেক প্রকল্প-২ পরিচালক অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী ড. ওয়ালিউর রহমান বলেন, ‘গোবিন্দগঞ্জে নির্মাণাধীন ফ্লাইওভারের পাশে ফাঁকা জায়গা বিকল্প সড়ক নির্মাণে কাজে লাগানো হবে। সব ঠিকভাবে সম্পন্ন হলে যানজট হবে না।’
গত বছর ঈদের সময় প্রতিদিন যমুনা সেতু দিয়ে গড়ে ৪০ হাজার যানবাহন উত্তরে যাতায়াত করেছে। পুলিশ এবং সড়ক ও জনপথ বিভাগ ওই হিসাব বিবেচনায় নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।